মেয়ে সন্তান নিয়ে উক্তি

আমাদের দেশের ইতিহাসের মধ্যে একটি কালো অধ্যায় আছে এবং সেই কালো অধ্যায় শুধুমাত্র আমাদের দেশের না এই পুরো ভারত উপমহাদেশের। শুধুমাত্র ভারত উপমহাদেশ বললে আবারো ভুল করা হবে পুরো পৃথিবীরই একটি অতীত ইতিহাসের একটি কালো অধ্যায় আছে সেটা হচ্ছে মেয়ে সন্তান। আমাদের এই পূর্বপুরুষেরা যারা আমাদের পৃথিবী আগে শাসন করে গেছেন তাদের ইতিহাস যদি আমরা দেখি তাহলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মেয়ে সন্তানকে তাচ্ছিল্য করা হতো এবং মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করলে ভাবা হতো সেটা এক ধরনের বড় অভিশাপ। কিন্তু আমাদের ধর্মে কখনো এই কথা বলা হয়নি শুধুমাত্র যারা আল্লাহ তাআলাকে মান্য করত না তারা এই কথাগুলো বেশি বলতো।

যারা আল্লাহ তায়ালাকে মানতো না তারা অবশ্যই মেয়েদের প্রতি অত্যাচার করতে এবং শুধুমাত্র মেয়েদের প্রতি অত্যাচার বলে ভুল হবে তাদের প্রতি এক ধরনের নরকীয় অত্যাচার করত। মেয়ে সন্তান হলে কোন কোন দেশে তাদের মেরে ফেলা হতো কিন্তু এখন অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এখন মানুষ বুঝতে পেরেছে যে মেয়ে সন্তান হওয়াটা ভাগ্যের ব্যাপার অর্থাৎ যেই ঘরে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে সেই ঘরে আল্লাহ তায়ালার রহমত বেশি আছে বলে এটা সকলেই এখন বুঝতে পারে।তার মূল কারণ হচ্ছে মেয়েরা সব সময় শান্তির প্রতীক অর্থাৎ মেয়েরা যখন একটি পরিবারে আসে তখন সে তার সঙ্গে শান্তি নিয়ে আসে এবং আস্তে আস্তে তার নম্রতা এবং ভদ্রতা দিয়ে সে পরিবারের পরিবেশটাকে ঠান্ডা এবং সুন্দর করে তোলে।

মেয়ে নিয়ে ক্যাপশন

সন্তান যারা অনেক ভালোবাসেন এবং যাদের এখন পর্যন্ত সন্তান হয়নি তারা আল্লাহ তায়ালার কাছে মেয়ে সন্তানের জন্য অনেক প্রার্থনা করছেন তাদেরকে বলব ধৈর্য হারা হবেন না। অবশ্যই আল্লাহ তায়ালা আপনার মনের কথা আপনার থেকে আগে জানে তাই আপনি যেটা চাচ্ছেন আল্লাহ তায়ালা যদি চান তাহলে সেটা আপনাকে দিয়ে দেবেন তবে আপনাকে বারবার আল্লাহতালার কাছ থেকে সেটা যেতে হবে এবং এমনভাবে চাইতে হবে যেন তিনি আপনাকে ফেরাতে না পারে।

যখন তাদের কাউকে কন্যা সন্তানের সুসংবাদ দেওয়া হয়, তখন তার মুখ অন্ধকার হয়ে যায় এবং অসহ্য মনস্তাপে ক্লিষ্ট হতে থাকে।তাকে শোনানো সুসংবাদের দুঃখে সে লোকদের কাছ থেকে মুখ লুকিয়ে থাকে। সে ভাবে, অপমান সহ্য করে তাকে থাকতে দেবে নাকি তাকে মাটির নিচে পুতে ফেলবে। শুনে রাখো, তাদের ফয়সালা খুবই নিকৃষ্ট। ’ (সুরা আন-নাহল, আয়াত : ৫৮-৫৯)
হজরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, ‘রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘ওই স্ত্রী স্বামীর জন্য অধিক বরকতময়, যার দেন-মোহরের পরিমান কম হয় এবং যার প্রথম সন্তান হয় মেয়ে।’
রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো ইরশাদ করেন, ‘যার গৃহে কন্যা সন্তান জন্ম গ্রহন করল, অতঃপর সে তাকে (কন্যাকে) কষ্টও দেয়নি, তার ওপর অসন্তুষ্ট ও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে মহান আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদে আহমদ, ১:২২৩)

কন্যা সন্তান নিয়ে উক্তি

কোন একটি বিশেষ দিনে বাবা যদি তার সন্তানকে উপদেশ দিতে চাই বা কোন একটি বিশেষ দিনে বাবা যদি তার সন্তানকে উপহার দিতে চায় তাহলে এই উক্তিগুলো যথেষ্ট বলে আমি মনে করি। কারণ এখানে এত সুন্দর সুন্দর কথা উল্লেখ করা আছে যে কথাগুলো আপনি অন্য কোথাও খুঁজে পাবেন না এবং আপনি এই কথাগুলো পেলে অবশ্যই অনেক বেশি খুশি হবেন।

আর আপনি ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে ও লজ্জাস্থান হেফাজত করে এবং যা প্রকাশ পায় তা ছাড়া তাদের (অন্যান্য) আভরণ প্রকাশ না করে, তাদের গ্রীবা ও বক্ষদেশ যেন কাপড় (চাদর বা ওড়না) দ্বারা আবৃত করে।

যে নারী স্বগৃহ, স্বামীগৃহ, মায়ের বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো স্থানে পর্দা রাখে না সে তার ও তার রবের মধ্যকার পর্দা ও লজ্জাশীলতাকে বিদীর্ণ করে দেয়।

কন্যা সন্তান হলো একজন বাবার জন্য পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ উপহার । আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমি একজন কন্যা সন্তানের বাবা ।

👉

আল্লাহ্‌ অনেক খুশী হলে মানুষকে কি উপহার দেয় জানেন ? কন্যা সন্তান । হাঁ এটাই ইসলাম এটাই সত্য ।

👉 কন্যা সন্তান হলো যেকোন ঘরের জন্য বরকত । সে সন্তানকে মানুষের মত মানুষ করতে একজন আদর্শ পিতা হতে হবে । আল্লাহ্‌ আমাকে একজন আদর্শ পিতা হওয়ার তাউফিক দিন । আমীন ।

👉 একজন আদর্শ বাবার কাছে তার কন্যা সন্তান হলো তার রাজ কন্যা । সে তার রাজ কন্যা কে সুখী করতে জীবনের অনেক কিছুই ত্যাগ করতে প্রস্তুত থাকে ।

👉 সাধারণত প্রতিটি মায়ের কাছে প্রিয় থাকে তার ছেলে সন্তান আর বাবার কাছে প্রিয় থাকে তার কন্যা সন্তান । তবে উভয়ের জন্যই পিতামাতার সমান ভালোবাসা থাকে ।

👉 একটি মেয়ে অনেক গরীব অনেক কালো হতে পারে কিন্তু সে তার বাবার কাছে রাজকন্যা ।

👉 কন্যা সন্তান কখনোই বোঝা নয়, সঠিক যত্ন পেলে একটি মেয়ে একটি সমাজকে পাল্টে দিতে পারে ।

👉 হাদিসে বলা হয়েছে যার একটি কন্যা সন্তান আছে, সে একটি জান্নাতের মালিক হয়ে গেলো । তবে সে তার কন্যাটিকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে ।

👉 একজন কন্যা সন্তানের বাবা হিসেবে আমি গর্বিত কারণ আল্লাহ্‌ এর মধ্যেই আমার মঙ্গল রেখেছেন । সবাই দোয়া করবেন আমি যেন একজন আদর্শ পিতা হতে পারি ।

👉 আপনার যদি একজন কন্যা সন্তান থাকে, আপনার জীবনে আর কিছু দরকার নেই । কারণ আপনার সকল বিপদ আপদে সেই এগিয়ে আসবে সবার আগে ।

👉 আপনি আপনার কন্যা সন্তানের যত্ন না নিলেও সে কিন্তু আপনার যত্ন ঠিকই নিবে । কারণ সকল বাবার কন্যারা এমনই হয়ে থাকে ।

👉 একজন বাবার যত্ন নেয়ার জন্য, তার কন্যার চেয়ে বেশী আর কেউ উপযুক্ত নয় । মেয়েরা তার বাবার ব্যাপারে সবকিছু এক করে দিতে পারে ।

👉 একজন বাবা হিসেবে আমার কন্যা সন্তানের উপর আমার অনেক দায়িত্ব, তাই আমাকে একজন আদর্শ বাবা হতে হবে ।

👉 একটি কন্যা সন্তান আল্লাহ্‌র পক্ষ থেকে অনেক বড় নেয়ামত, আলহামদুলিল্লাহ্‌ আমি সেই নেয়ামতের মালিক ।

 

রাসূলুল্লাহ (সা.) আরো বলেছেন, ‘যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান হবে, এবং সে তাদেরকে এলেম-কালাম, আদব-কায়দা শিক্ষা দিবে, এবং যত্নের সঙ্গে প্রতিপালন করবে ও তাদের ওপর অনুগ্রহ করবে! সে ব্যক্তির ওপর অবশ্যই জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে।’
যে ব্যক্তির তিনটি কন্যা সন্তান বা তিনজন বোন আছে অথবা দু’জন কন্যা সন্তান বা বোন আছে। সে তাদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেছে এবং তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করেছে। তার জন্য রয়েছে জান্নাত।’ 

 

Leave a Comment