ভিটামিন ই বেশি খেলে কি হয়

সাধারণত প্রত্যেকটা জিনিসের রয়েছে একটি নির্ধারিত মাপটা অতিক্রম করলে সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে এটা স্বাভাবিক। তাই আমাদের সব সময় ভিটামিন ই পর্যাপ্ত পরিমাণে খেতে হবে তবে তার আগে আমাদের জানতে হবে কোন কোন সমস্যা হতে পারে অতিরিক্ত ভিটামিন কি খাবার ফলে। এ সমস্যাগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে এবং আমরা যত তাড়াতাড়ি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে পারব ততই আমাদের জন্য ভালো হবে। চলুন জানার চেষ্টা করে ভিটামিন ই অতিরিক্ত খেলে সাধারণত কি সমস্যা তৈরি হতে পারে এবং তা আমরা কিভাবে নির্বাচন করতে পারি।

অতিরিক্ত ভিটামিন আমাদের শরীরে থাকলে সে ভিটামিন গুলোতে প্রচুর পরিমাণে পানির প্রয়োজন হয়। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি মজুদ দেওয়ার জন্য শরীর সবসময় চেষ্টা করে এবং সেই সময় শরীরে পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। কোন ভিটামিন অতিরিক্ত পরিমাণে খাওয়া যাবেনা। বমি ভাব হওয়াটা একেবারে স্বাভাবিক ব্যাপার যদি অতিরিক্ত ভিটামিন ই খাওয়া হয় এবং অনেকের ক্ষেত্রে মাংসপেশি দুর্বলতা দেখা দিতে পারে অতিরিক্ত ভিটামিন ই খাওয়ার কারণে।

অতিরিক্ত ভিটামিন ই খাওয়ার ফলে অনেকের ডায়রিয়ার মতন সমস্যা তৈরি হতে পারে তাই সবসময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে যেন আমরা সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ই খায়। তবে গুরুতর কিছু কারণ আছে যেগুলো আমাদের জানা উচিত এবং সেটা হচ্ছে যদি আমরা নিয়মিত এই ভিটামিন ই বা অন্যান্য ভিটামিন অতিরিক্ত পরিমাণে খেতে থাকে তাহলে সেটা আমাদের হৃদরোগের কারন হিসাবেও দেখা দিতে পারে তাই সবসময় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।

প্রচুর পরিমাণে ক্লান্তি বাড়তে পারে এবং মাথা ব্যাথা থেকে শুরু করে ত্বকে ফুসকুড়ি সৃষ্টি হওয়ার মতন সমস্যা যেটাকে আমরা অ্যালার্জিক রিয়াকশন বলে থাকি এই ধরনের সমস্যা অতিরিক্ত ভিটামিন খাওয়ার ফলে তৈরি হয়। এই সমস্যা আরো গুরুতর হতে পারে যেমন মাথা ব্যথা থেকে শুরু করে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়া এবং প্রচন্ড পেট ব্যথার মতন সমস্যা তৈরি হয় রোগীর। তাই ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়ার সঠিক নিয়ম সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান রাখতে হবে এবং কখন এই ওষুধ খেতে হবে ও কতটুকু খেতে হবে তার জন্য একজন রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল কখন খেতে হয়

রোগীর সমস্যা এবং শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা নির্ধারণ করে দেয় ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাবার সঠিক সময়। আপনি যদি সঠিক সময়ের মধ্যে ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেতে পারেন এবং সেটা নিয়মিত হয় এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে হয় তাহলে অবশ্যই ভিটামিন ই এর উপকার আপনি আপনার শরীরে পাবেন। সাধারণত রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ভিটামিন ই ক্যাপসুল ধরা পেটে খেয়ে ঘুমাতে গেলে সবথেকে ভালো উপকার পাওয়া যায়। তবে আপনার কি সমস্যা হয়েছে তার জন্য দ্বিতীয় ডজে আপনি ভিটামিন ই যদি খেয়ে থাকেন তাহলে সকাল এবং রাতে আপনাকে এই ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেতে হবে।

আমরা আগেও বলেছি এর জন্য রেজিস্টার চিকিৎসকের পরামর্শ আপনাকে নিতে হবে যাতে করে আপনি সঠিক নির্দেশনা পান ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাওয়া সম্পর্কে। কারো কারো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন মাস পর্যন্ত এই ভিটামিন ই ক্যাপসুল খাবার পরামর্শ দিয়ে থাকেন একজন চিকিৎসক তাই আপনার কি সমস্যা হয়েছে সেটা সম্পর্কে আগে জানুন।

ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে কি মোটা হয়

প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভিটামিন ই ক্যাপসুল খেলে অবশ্যই একজন স্বাভাবিক ব্যক্তি অতিরিক্ত মোটা হতে পারে। আপনার শরীরে যে ভিটামিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে সেই ভিটামিন যদি আপনি আরও খেতে থাকেন তাহলে সেই ভিটামিন আপনার শরীরের মধ্যে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে যার কারণে আপনার শরীরে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি বা মেদ বৃদ্ধির মতন সমস্যা তৈরি হতে পারে। এটা আস্তে আস্তে আপনাকে মোটা শরীরের অধিকারী করতে পারে তাই সবসময় সতর্ক থাকুন।

 

 

Leave a Comment