আইবিএস থেকে মুক্তির উপায়

আজকে আমাদের প্রবন্ধের মাধ্যমে আই বি এস থেকে মুক্তির ভালো কিছু উপায় সম্পর্কে আপনাদেরকে অবগত করার চেষ্টা করছি। আপনারা যদি আমাদের সাথে থাকেন তাহলে আইবিএস সম্পর্কে জানতে পারবেন আইবিএস থেকে মুক্তির উপায় জানতে হলে শুরুতেই আমাদের জেনে নেওয়া প্রয়োজন আইবিএস কি? আইবিএস একটা মানুষের শরীরে কি ভাবে আক্রমণ করে এটি মূলত মানুষের শরীরে পরিপাকতন্ত্রের একটি ফাংশনাল বা কার্যগত সমস্যা।

এখানে বলতে গেলে পরিপাকতন্ত্রের কোন গঠন হতো পরিবর্তন হয় না তবে এই সমস্যা সাধারণত যুবক বয়সেই বেশি হয়ে থাকে। মূলত নারীরা এই সমস্যায় বেশি ঝুকে থাকেন যারা অধিকাংশ সময় উদ্বিগ্ন এবং মানসিক চাপে থাকে তারা এই আইবিএস সমস্যায় বেশি ভোগেন। এখন পর্যন্ত আইবিএস এর আইবিএস মানুষের শরীরে আক্রান্ত হওয়ার ভালো কোন কারণ জানা যায়নি। তবে বিশেষ কিছু মাধ্যমে জানা যায় যে পরিপাক নালীর পেশীর অস্বাভাবিক সংকোচন, স্নায়ুর সংকেতনিত সমস্যা, প্রসারণ, উদ্যোগ ও মানসিক চাপ

, পরিপাকতন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার পরিবর্তন ইত্যাদি কারণে এটি হতে পারে কিনা সেটা বুঝার জন্য বিশেষ কিছু মাধ্যম সম্পর্কে আপনার জেনে নেওয়া প্রয়োজন। এর দুই ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হতে পারে একটি হলো পেটে ব্যথা অনুভব হওয়া অন্যটি হলো মল থেকে অভ্যাসে পরিবর্তন ঘটা অর্থাৎ আপনার পেটে এক ধরনের ব্যথা অনুভব হবে যে ব্যথাটা হয়তো আপনি আগে কখনো উপলব্ধি করেননি এবং অন্যটি হলো আপনার মলত্যাগ অভ্যাসের পরিবর্তন ঘটবে অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট সময় হয়তো আপনি প্রতিদিনের মলত্যাগ করেন কিন্তু সেই সময়ের পরিবর্তন ঘটবে অন্য কোন সময় আপনার মলত্যাগের প্রয়োজন হতে পারে।

আইবিএস সমস্যা থেকে বাঁচার উপায়

আইভিএস থেকে বাঁচতে হলে আপনাকে যে সকল উপায় গুলো জানার প্রয়োজন সে হিসেবে উপায় গুলো নিয়ে আপনাকে বিশেষ কিছু তথ্য দেওয়ার চেষ্টা করছি। দুঃখজনক হলেও এটা সত্যি যে এই সমস্যার পুরোপুরি কোন সমাধান নেই তবে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। রোগীর লক্ষণ অনুযায়ী যদি খাবারের পরিবর্তন ঘটে তাহলে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। আপনি সম্পূর্ণরূপে এই রোগ কে নির্মূল করতে পারবেন না।

আপনার প্রতিদিনের খাদ্যের পরে যদি আপনার নিয়ন্ত্রণ থাকে তাহলে আপনি বুঝতে পারবেন যে কোন কোন খাবারের মধ্য দিয়ে আপনার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে এবং কোন কোন খাবার আপনার শরীরের জন্য সুখকর বয়ে আসছে। এছাড়াও মানসিক চাপ কমাতে হবে আপনি যদি অতিরিক্ত মানুষের চাপের মধ্যে অবস্থান করেন তাহলে আপনার মানসিক চাপের পরিমাণ কমানো উচিত। তবে আপনি এই সমস্যা থেকে অনেকটাই সমাধান পাবেন প্রয়োজন হলে উপসর্গ হিসেবে চিকিৎসকের নিকট পরামর্শ নিতে হবে। তবে অতি সহজে আপনি এই সমস্যা থেকে নিজেকে পরিত্রান রাখতে পারবেন।

আইবিএস সমস্যা থাকলেও কিভাবে ভালো থাকা যায় সে সম্পর্কে নিচে আরও বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে:-

● যে সকল খাবার আপনার শরীরের জন্য সুখকর নয় অর্থাৎ পেটের সমস্যা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে সেসব খাবারগুলো থেকে নিজেকে দূরে রাখুন যেমন: দুগ্ধ জাত খাবার, অতিরিক্ত তেলেভাজা খাবার, ডিপ ফ্রাই খাবার, অতিরিক্ত মশাযুক্ত খাবার, বেকারই কৃত্রিম চিনি, ক্যাফেইন ইত্যাদি থেকে নিজেকে দূরে রাখুন।

● নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং নিয়মিত হাটাহাটি করার চেষ্টা করুন এতে আপনার পেটে গ্যাস বা ফাঁপা ভাব দূর হয়ে যাবে।

● একসঙ্গে অনেকগুলো খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে খাবার খাবেন এতে করে আপনার শরীর সুস্থ থাকবে খাবারের টাইমটেবিল বজায় রাখার চেষ্টা করবেন।

● আপনি যদি অতিরিক্ত মানুষের চাপে ভোগেন তাহলে মানুষের চাপ কমানোর চেষ্টা করবেন মানসিক চাপ বা স্ট্রেস কমাতে ব্যায়াম যোগব্যায়াম মেডিটেশন করতে পারেন দরকার হলে এজন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের নিকট আপনি পরামর্শ নিতে পারেন।

সম্মানিত পাঠক মন্ডলী, আইবিএস সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য বিশেষ কিছু উপায় আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করে দিয়েছি। আপনারা মনোযোগ সহকারে যদি এই উপায় গুলো উপলব্ধি করেন এবং এগুলো মনোযোগ সহকারে পড়েন তাহলে এইসব সমস্যা থেকে বাঁচার জন্য অতি সহজেই আপনারা সমাধান গুলো খুঁজে বের করতে পারবেন।

Leave a Comment